ছয় দফা দাবি সামনে রেখে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখে ১১ দলীয় ঐক্যের ঘোষিত লংমার্চ সফল করতে রাজধানীর কারওয়ানবাজার, তেজগাঁও ট্রাকস্ট্যান্ড ও সাতরাস্তা এলাকায় প্রচারপত্র বিতরণ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী উত্তর হাতিরঝিল অঞ্চল।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১১টায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের সেক্রেটারি ড. মুহাম্মদ রেজাউল করিমের নেতৃত্বে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় নেতাকর্মীরা ব্যবসায়ী, শ্রমিক, পথচারীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে লংমার্চের কর্মসূচি ও ছয় দফা দাবিসংবলিত প্রচারপত্র বিতরণ করেন।
লংমার্চের ছয় দফা দাবির মধ্যে রয়েছে—গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ, তেল, গ্যাস ও সার সংকট নিরসন, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং প্রশাসনের সর্বস্তরে সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধ করা।
প্রচারপত্র বিতরণকালে ড. মুহাম্মদ রেজাউল করিম বলেন, সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর জনগণের সামনে কয়েকটি অগ্রাধিকারমূলক কর্মসূচির কথা বলেছিল। এর মধ্যে বিদ্যুৎ ও গ্যাস সহজলভ্য ও সাশ্রয়ী করা, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণ এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতির প্রতিশ্রুতি ছিল। কিন্তু এসব ক্ষেত্রে সরকার কাঙ্ক্ষিত সাফল্য অর্জন করতে পারেনি।
তিনি বলেন, “এই লংমার্চ কোনো দলের লংমার্চ নয়। এই লংমার্চ দেশের মানুষের গণরায় বাস্তবায়নের দাবিতে। সেই লক্ষ্যেই আমরা জনগণের কাছে যাচ্ছি এবং আমাদের প্রচারপত্র বিতরণ করছি।”
ড. মুহাম্মদ রেজাউল করিম আগামী শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সকাল ৭টায় ঢাকার মতিঝিলের শাপলা চত্বর থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখে ঘোষিত লংমার্চে সর্বস্তরের জনগণকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, জনগণের স্বার্থসংশ্লিষ্ট ছয় দফা দাবি বাস্তবায়নে জনসম্পৃক্ততা বাড়ানো প্রয়োজন। এ লক্ষ্যেই লংমার্চের কর্মসূচি সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে অবহিত করা হচ্ছে।
প্রচারপত্র বিতরণকালে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের প্রচার-মিডিয়া সম্পাদক আতাউর রহমান সরকার, তেজগাঁও দক্ষিণের আমীর ইঞ্জিনিয়ার নোমান আহমেদ, সেক্রেটারি ফরিদ আহমেদ রুবেল, শিল্পাঞ্চল থানা আমীর কলিম উল্লাহ, নায়েবে আমীর মোহাম্মদ উল্লাহ ভূঁইয়া হারুন, সেক্রেটারি নুর উদ্দিন জাহিদ, শ্রমিক নেতা কামাল উদ্দিন রায়হান, আব্দুল হক, আলী আকবরসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।