চট্টগ্রাম ব্যুরো
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও চট্টগ্রাম অঞ্চল পরিচালক মুহাম্মদ শাহজাহান বলেছেন, গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামকে আরও বেগবান করতে আগামী ৫ সেপ্টেম্বরের ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চ সর্বাত্মকভাবে সফল করতে হবে। লংমার্চের মাধ্যমে জনগণের ন্যায্য দাবির উত্থাপন করা হবে এবং কোনোভাবেই বাংলাদেশকে আবার ফ্যাসিবাদী ও স্বৈরাচারী শাসনের পথে ফিরে যেতে দেওয়া যাবে না।
গতকাল বুধবার চট্টগ্রাম নগর জামায়াত কার্যালয় বিআইএ কনফারেন্স রুমে আগামী ৫ সেপ্টেম্বরের ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চ ও লালদিঘী ময়দানের সমাবেশ সফল করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর চট্টগ্রাম অঞ্চল দায়িত্বশীল সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মুহাম্মদ শাহজাহান বলেন, দেশের জনগণ দীর্ঘদিন ধরে তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছে। জুলাই গণহত্যার বিচার, গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধ, বিদ্যুৎ-তেল-গ্যাস ও সারের সংকট নিরসন এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নসহ জনগণের মৌলিক দাবিগুলো উপেক্ষা করার সুযোগ নেই। এসব দাবিতে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ ও সোচ্চার হতে হবে।
তিনি বলেন, ২৪-এর জুলাই বিপ্লবের মধ্য দিয়ে দেশের মানুষ অন্যায়, জুলুম ও ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে যে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছে, তা বাস্তবায়নে রাজনৈতিক দল ও জনগণকে ঐক্যবদ্ধভাবে ভূমিকা পালন করতে হবে। সংকীর্ণ দলীয়করণ, স্বজনপ্রীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের রাজনীতি বন্ধ করে একটি বৈষম্যহীন, ইনসাফভিত্তিক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করতে হবে। জনগণের মতামত ও গণরায়কে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনা করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, আগামী ৫ সেপ্টেম্বরের লংমার্চ শুধু একটি রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়; এটি জনগণের ন্যায্য দাবি আদায় এবং দেশকে ফ্যাসিবাদী অপশক্তির পুনরুত্থান থেকে রক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি। চট্টগ্রাম অঞ্চলের সর্বস্তরের দায়িত্বশীলদের নিজ নিজ এলাকায় ব্যাপক জনসম্পৃক্ততা তৈরি করতে হবে। লংমার্চে সর্বস্তরের জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার পাশাপাশি কর্মসূচিকে শান্তিপূর্ণ, সুশৃঙ্খল ও সফল করতে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
তিনি লংমার্চে সর্বস্তরের জনগণকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়ে বলেন, জনগণের ঐক্যবদ্ধ শক্তিই অন্যায় ও জুলুমের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় প্রতিরোধ। তাই আগামী ৫ সেপ্টেম্বরের লংমার্চ ও লালদিঘী ময়দানের সমাবেশ সফল করে গণতন্ত্র ও ন্যায়বিচারের পক্ষে জনগণের শক্তিশালী অবস্থান তুলে ধরতে হবে।
অবিলম্বে গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ, তেল, গ্যাস ও সার সংকট নিরসন, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধসহ জনগণের ন্যায্য দাবিতে আগামী ৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম লংমার্চ ও লালদিঘী ময়দানে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে।
সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য অধ্যাপক আহছানুল্লাহ ভূঁইয়া, আলহাজ্ব শাহজাহান চৌধুরী এমপি, চট্টগ্রাম মহানগরীর আমীর মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সদস্য ও চট্টগ্রাম অঞ্চল টিম সদস্য মুহাম্মদ জাফর সাদেক, অধ্যাপক নুরুল আমিন চৌধুরী, মাওলানা মোস্তাফিজুর রহমান, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আমীর আনোয়ারুল আলম চৌধুরী, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আমীর আলাউদ্দিন সিকদার, বান্দরবান জেলা আমীর মাওলানা এস এম আব্দুছ ছালাম আজাদ, খাগড়াছড়ি জেলা আমীর অধ্যাপক সৈয়দ মো. আব্দুল মোমেন, চট্টগ্রাম মহানগরী সেক্রেটারি অধ্যক্ষ নুরুল আমীন, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা সেক্রেটারি অধ্যক্ষ মাওলানা বদরুল হক, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা সেক্রেটারি আব্দুল জব্বার, রাঙ্গামাটি জেলা নায়েবে আমীর জাহাঙ্গীর আলম, সেক্রেটারি মনছুরুল হক, কক্সবাজার জেলা সেক্রেটারি জাহেদুল ইসলামসহ চট্টগ্রাম অঞ্চলের বিভিন্ন স্তরের দায়িত্বশীলবৃন্দ।