logo

গ্রাম-গঞ্জ-শহর

যশোরের স্মরণসভা

এক হাদির আত্মত্যাগে জেগেছে হাজারো কণ্ঠ

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও গণঅধিকার আন্দোলনের অন্যতম সাহসী কণ্ঠ শরীফ ওসমান হাদির স্মরণে যশোরে স্মরণ সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

জেলা সংবাদদাতা

Location :

Jessore Sadar

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও গণঅধিকার আন্দোলনের অন্যতম সাহসী কণ্ঠ শরীফ ওসমান হাদির স্মরণে যশোরে স্মরণ সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। বক্তারা বলেন, শরীফ ওসমান হাদি ছিলেন দুর্নীতি, স্বৈরতন্ত্র ও ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে আপসহীন এক সংগ্রামী নেতা। তার হত্যা দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রাকে থামিয়ে দিতে পারবে না, বরং জনগণের ন্যায়বিচারের দাবি আরও সুসংগঠিত করবে।

শনিবার (২০ ডিসেম্বর) বিকেলে যশোর কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে জেলা জামায়াতে ইসলামীর আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে জেলার বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন। জেলা নায়েবে আমীর মাওলানা হাবিবুর রহমানের সভাপতিত্বে সমাবেশে প্রধান বক্তা ও বিশেষ বক্তাগণ শহীদ হাদির জীবন ও আদর্শ তুলে ধরেন এবং হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবি করেন।

সভায় জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি অধ্যাপক আবু জাফর বলেন, স্বৈরশাসন সাময়িকভাবে নিপীড়ন চালাতে পারে, কিন্তু জনগণের আন্দোলন ও চেতনাকে দমন করতে পারে না। শরীফ ওসমান হাদি ছিলেন অত্যাচার ও আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর প্রতীক। তার আত্মত্যাগ এ দেশের মানুষকে আরও সাহসী করে তুলবে। তিনি আরও বলেন, হাদির হত্যা দেশের ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে নতুন অধ্যায় রচনা করবে।

সহকারী সেক্রেটারি অধ্যাপক গোলাম কুদ্দুস তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, এক হাদিকে হত্যা করে হাজারো প্রতিবাদী কণ্ঠকে থামিয়ে রাখা সম্ভব নয়। তিনি বলেন, গণমানুষের অধিকারের প্রশ্নে শরীফ ওসমান হাদি ছিলেন আপসহীন। আমরা প্রশাসনের কাছে দাবি জানাই ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার এবং বিচার নিশ্চিত করা হোক।

যশোর–৩ আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী ভিপি আব্দুল কাদের বক্তব্যে বলেন, এই হত্যাকাণ্ড শুধু একজন নেতাকে হারানো নয়, বরং দেশের গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও ন্যায়বিচারের প্রতি বড় একটি আঘাত। শরীফ ওসমান হাদি জনমানুষের যে ভালোবাসা অর্জন করেছিলেন, তা তার সংগ্রামের শক্তিই প্রমাণ করে।

অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জেলা প্রচার সম্পাদক শাহাবুদ্দিন বিশ্বাস, শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক অধ্যাপক আবুল হাশিম রেজা, জেলা অফিস সেক্রেটারি নূর-ই আলী আল মামুন ও শহর সভাপতি ইসমাইল হোসেনসহ আরও নেতৃবৃন্দ । তারা শহীদ হাদির অবদান, আদর্শিক দৃঢ়তা এবং গণমানুষের আকাঙ্ক্ষা পূরণের সংগ্রাম অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

সভা শেষে শহীদ শরীফ ওসমান হাদির রুহের মাগফিরাত, দেশের শান্তি, স্থিতিশীলতা ও সুখসমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন মাওলানা হাবিবুর রহমান।

বক্তারা সামগ্রিকভাবে মত প্রকাশ করেন যে, ইতিহাসে যারা দেশের মানুষের অধিকার ও ন্যায়বিচারের পক্ষে দাঁড়ায়, তাদের আত্মত্যাগ কখনো বৃথা যায় না। শরীফ ওসমান হাদি ছিলেন এমনই এক সাহসী কণ্ঠ, যার আদর্শ ও সংগ্রাম আগামীর প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে।