মহিব্বুল আরেফিন, রাজশাহী
রাজশাহী মহানগরীর যানজট নিরসন ও রেলক্রসিংয়ে নির্বিঘœ যোগাযোগের স্বপ্ন দেখিয়ে শুরু হয়েছিল চারটি ফ্লাইওভার নির্মাণ। এতে ব্যয় ধরা হয় প্রায় ৫৪০ কোটি টাকা। ২০২৩ সালের শেষ দিকে শুরু হওয়া প্রকল্পগুলোর মধ্যে তিনটির কাজ চলতি বছরের জুনে এবং সব মিলিয়ে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সময় পেরিয়ে গেছে দুই মাস। এখনো কোনো ফ্লাইওভার পুরোপুরি যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া সম্ভব হয়নি।
স্বপ্ন দেখানো ফ্লাইওভার এখন দুর্ভোগের চূড়ান্ত পর্যায়ে। নির্মাণকাজের দীর্ঘসূত্রতায় নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো পরিণত হয়েছে খানাখন্দ, কাদা ও জলাবদ্ধতার জনপদে। কোথাও সড়কের একাংশ বন্ধ, কোথাও বিকল্প পথে যান চলাচল। বৃষ্টির পানি জমে গর্ত ঢেকে যাওয়ায় বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি। যানবাহন বিকল হয়ে তৈরি হচ্ছে যানজট। আর দীর্ঘদিন সড়ক আংশিক বন্ধ থাকায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন নির্মাণ এলাকার ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দারা। নগরবাসীর অভিযোগ, উন্নয়ন প্রকল্পের সুফল পাওয়ার আগেই তাদের ভোগ করতে হচ্ছে দীর্ঘস্থায়ী ভোগান্তি। কাজের ধীরগতি, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন সেবা সংস্থার মধ্যে সমন্বয়ের ঘাটতি এবং প্রকল্প তদারকিতে দুর্বলতার কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। তবে রাজশাহী সিটি করর্পোরেশন (রাসিক) বলছে, বিল পরিশোধের জটিলতা ইতোমধ্যে দূর হয়েছে। এখন ঠিকাদারদের সংশোধিত সময়সীমার মধ্যে কাজ শেষ করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। চলতি বছরের শেষ নাগাদ দুই থেকে তিনটি ফ্লাইওভার যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়ার আশাবাদ জানিয়েছে নগর কর্তৃপক্ষ।
সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে রাসিকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তিনটি ফ্লাইওভারের নতুন সময়সীমা ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। আর চারটির মধ্যে সবচেয়ে বড় শহীদ এএইচএম কামারুজ্জামান চত্বর ফ্লাইওভারের মেয়াদ ২০২৮ সালের জুন পর্যন্ত বাড়ানোর প্রক্রিয়া চলছে।
চার প্রকল্পে ৫৪০ কোটি টাকা : রাসিক সূত্রে জানা যায়, নগরীর গুরুত্বপূর্ণ রেলক্রসিংগুলোর যানজট কমাতে চারটি ফ্লাইওভার নির্মাণে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৫৪০ কোটি টাকা। এর মধ্যে রায়পাড়া ফ্লাইওভার ৮৬ কোটি ১৯ লাখ টাকা, বন্ধগেট ফ্লাইওভার ৯৭ কোটি ৭০ লাখ টাকা, বিলশিমলা ফ্লাইওভার ৮৭ কোটি ৩০ লাখ টাকা, শহীদ এএইচএম কামারুজ্জামান চত্বর ফ্লাইওভার ২৭০ কোটি ৫১ লাখ টাকা। অর্থাৎ শুধু কামারুজ্জামান চত্বরের ফ্লাইওভারেই ব্যয় হচ্ছে চার প্রকল্পের মোট ব্যয়ের প্রায় অর্ধেক। এ প্রকল্পটিই আবার সবচেয়ে বেশি জটিলতা ও বিতর্কের মধ্যে রয়েছে। প্রকল্পগুলোর মূল লক্ষ্য ছিল রেলক্রসিংয়ে যানবাহনের অপেক্ষা কমানো এবং নগরীর এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে দ্রুত যোগাযোগ নিশ্চিত করা। কিন্তু নির্মাণকাজ চলার সময় সেই রেলক্রসিং ও আশপাশের সড়কেই এখন যানজটের নতুন চাপ তৈরি হয়েছে।
সংকুচিত সড়কে নেই ট্রাফিক ব্যবস্থা, তীব্র ঝুঁকিতে শিক্ষার্থীরা
রেলগেট চত্বর এলাকা থেকে শালবাগানগামী প্রধান সড়কের একাংশ দীর্ঘদিন ধরে নির্মাণসামগ্রী ও পিলারের কাঠামো দিয়ে আংশিক বা পুরোপুরি বন্ধ রাখা হয়েছে। এই রুটে একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সরকারি দপ্তর অবস্থিত হওয়ায় প্রতিদিন সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের ভিড় থাকে সবচেয়ে বেশি। কিন্তু নির্মাণকাজের কারণে বিকল্প পথ সংকুচিত হয়ে পড়া এবং প্রয়োজনীয় ট্রাফিক পুলিশ বা নিরাপত্তাকর্মী না থাকায় ভারী যানবাহন, ইজিবাইক ও পথচারীদের বিশৃঙ্খল চলাচল প্রতিনিয়ত প্রাণের ঝুঁকি তৈরি করছে। সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কের গর্তগুলো কাদাপানিতে ঢেকে গিয়ে শিক্ষার্থীরা দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন।
ভোগান্তির কেন্দ্র রেলগেট: নগরীর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যান চলাচলের পয়েন্টগুলোর একটি রেলগেট। বিন্দুর মোড় থেকে নিউ মার্কেট পর্যন্ত নির্মাণাধীন কামারুজ্জামান চত্বর ফ্লাইওভারের কাজের কারণে সড়কের একটি অংশ দীর্ঘদিন ধরে সংকুচিত হয়ে আছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, ফ্লাইওভারের বিভিন্ন অংশে এখনও পিলার নির্মাণসহ অবকাঠামোগত কাজ চলছে। নির্মাণসামগ্রী ও কাজের জন্য সড়কের ব্যবহারযোগ্য অংশ কমে যাওয়ায় ব্যস্ত সময়ে যানবাহনের চাপ সামলানো কঠিন হয়ে পড়ছে। এখানকার এক ব্যবসায়ী বলেন, “প্রায় ছয় মাস ধরে ব্যবসা বলতে কিছুই নেই।” তার মতো আরও অনেক ব্যবসায়ী জানান, নির্মাণকাজের কারণে দোকানের সামনে স্বাভাবিকভাবে ক্রেতারা আসতে পারছেন না। এ অবস্থায় প্রশ্ন উঠেছে প্রকল্প যানজট কমানোর কথা, সেটি নির্মাণকালেই যদি দীর্ঘস্থায়ী যানজট ও ব্যবসায়িক ক্ষতির কারণ হয়, তাহলে নির্মাণ ব্যবস্থাপনায় বিকল্প যোগাযোগব্যবস্থা আরও কার্যকর করা হলো না কেন?
গর্তে নষ্ট হচ্ছে যানবাহন: ফ্লাইওভার নির্মাণের সঙ্গে সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সড়কগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ নিয়েও অভিযোগ রয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় রাস্তা খুঁড়ে রাখা হয়েছে। কোথাও পিচ উঠে গেছে, কোথাও বড় বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। ইজিবাইকচালক জাহিদুল ইসলাম বলেন, গর্ত ও ভাঙাচোরা রাস্তার কারণে প্রায়ই যানবাহন নষ্ট হচ্ছে। রিকশাচালক শুকুর আলী জানান, বৃষ্টির পর গর্তে পানি জমে গেলে বিপদ আরও বাড়ে। বহরমপুর ও বন্ধগেট এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ, সড়ক বন্ধ বা সংকুচিত থাকায় স্বাভাবিক পথের বদলে অনেক সময় ঘুরে যেতে হচ্ছে। এতে শুধু সময় নয়, অতিরিক্ত জ্বালানিও খরচ হচ্ছে। অর্থাৎ, ফ্লাইওভারের নির্মাণ ব্যয়ের বাইরে সাধারণ মানুষকে বহন করতে হচ্ছে অতিরিক্ত যাতায়াত ব্যয়, ব্যবসায়িক ক্ষতি ও সময়ের মূল্য—যার কোনো হিসাব প্রকল্প ব্যয়ের মধ্যে নেই।
বিলশিমলায় এগিয়েছে কাজ
চার প্রকল্পের মধ্যে বিলশিমলা ফ্লাইওভারের কাজ তুলনামূলকভাবে এগিয়ে রয়েছে। নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান মজিদ সন্সের নির্বাহী পরিচালক জারগিছুর রহমান জানিয়েছেন, এ প্রকল্পের প্রায় ৭৫ থেকে ৮০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। ডিসেম্বরের মধ্যে কাজ শেষ করার আশা করছেন তারা। তবে প্রকল্পের বড় অংশ শেষ হলেও আশপাশের সড়কের অবস্থা নিয়ে নগরবাসীর অভিযোগ রয়ে গেছে। ফ্লাইওভার নির্মাণের সঙ্গে সড়ক উন্নয়ন, পানি নিষ্কাশন ও অন্যান্য ইউটিলিটি ব্যবস্থাপনার কাজ একই সময় ও সমন্বিত পরিকল্পনায় করা হচ্ছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।
রায়পাড়ায় কাজ প্রায় শেষ, তবু নতুন খোঁড়াখুঁড়ি
রায়পাড়া ফ্লাইওভারের কাজও শেষ পর্যায়ে। কিন্তু ফ্লাইওভার প্রকল্পের কাজ প্রায় শেষ হওয়ার সময় আশপাশে ওয়াসার পানির লাইন স্থাপনের কাজ শুরু হওয়ায় আবারও সড়ক খোঁড়াখুঁড়ি হয়েছে। এটি নগর উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর মধ্যে সমন্বয়হীনতার একটি বড় উদাহরণ হিসেবে দেখছেন নগরবাসী। রাসিকের নিজস্ব উন্নয়ন কর্মকা- নিয়েও চলতি বছর বিভিন্ন সভায় রাস্তা, ড্রেনেজ ও ওয়াসার পাইপলাইন কাজের সমন্বয়ের প্রয়োজনীয়তা উঠে এসেছে। এপ্রিলের এক সভায় রাসিক কর্তৃপক্ষ ওয়াসার পাইপলাইন স্থাপনের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক পুনর্মূল্যায়ন এবং বিভিন্ন অবকাঠামো উন্নয়ন কাজের সমন্বয় নিয়ে আলোচনা করে।
বন্ধগেটে নির্মাণের সঙ্গে সড়ক দুর্ভোগ
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের কাছের বন্ধগেট রেলক্রসিংও নগরীর গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগপথ। সেখানে নির্মাণকাজ চলায় সড়কের স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে। ২০২৬ সালের এপ্রিলেও রাসিক প্রশাসক নির্মাণাধীন বন্ধগেট ফ্লাইওভার এলাকা পরিদর্শন করে কাজের অগ্রগতি ও গুণগত মান নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলেন এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করার নির্দেশ দেন। কিন্তু সময়সীমা পার হওয়ার পরও প্রকল্পগুলো পুরোপুরি শেষ না হওয়ায় নগরবাসীর প্রশ্ন—পরিদর্শন, নির্দেশনা ও সময়সীমা নির্ধারণের পরও মাঠপর্যায়ে কাজের গতি কেন প্রত্যাশিত পর্যায়ে পৌঁছাচ্ছে না?
সবচেয়ে বড় প্রকল্পে সবচেয়ে বেশি জটিলতা
বিন্দুর মোড় থেকে নিউ মার্কেট পর্যন্ত ফ্লাইওভার প্রকল্পটি শুরু থেকেই বিতর্কিত। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দাদের একটি অংশ প্রকল্পটির প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তারা মানববন্ধন, বিক্ষোভ ও স্মারকলিপির মাধ্যমে প্রকল্পটির পুনর্মূল্যায়নের দাবি জানান।
এর মধ্যেই প্রকল্পের নকশা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। চলতি বছরের জানুয়ারিতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে চার ফ্লাইওভারের নকশায় ত্রুটির অভিযোগ এবং ফ্লাইওভার চালুর পর ল্যান্ডিং এলাকায় উল্টো যানজট তৈরির আশঙ্কার কথা উঠে আসে।
ওই সময় রাসিক প্রশাসক ও বিভাগীয় কমিশনার সংশ্লিষ্টদের নিয়ে বিষয়টি পর্যালোচনার জন্য বৈঠকের উদ্যোগ নিয়েছিলেন। প্রতিবেদনে আরও উঠে আসে, কামারুজ্জামান চত্বর প্রকল্পের নিউ মার্কেট অংশের কাজ নকশা-সংক্রান্ত জটিলতায় বন্ধ থাকার কথাও। ফলে প্রকল্পটি শুধু নির্মাণের ধীরগতির কারণে নয়, নকশা, প্রয়োজনীয়তা ও ভবিষ্যৎ যানজট তিন দিক থেকেই প্রশ্নের মুখে।
৬৬০ কোটি থেকে ৫৪০ কোটি
চার ফ্লাইওভার প্রকল্পের বর্তমান ব্যয়ের পেছনেও রয়েছে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন। প্রাথমিকভাবে নগরীর ভদ্রা রেলক্রসিংয়ে প্রায় ১২০ কোটি টাকা ব্যয়ে আরও একটি ফ্লাইওভার নির্মাণের পরিকল্পনা ছিল। ফলে মোট পরিকল্পিত ব্যয় দাঁড়াত প্রায় ৬৬০ কোটি টাকা। কিন্তু দরপত্র আহ্বানের আগেই সরকার পরিবর্তনের পর ওই প্রকল্প বাদ দেওয়া হয়। বর্তমানে চারটি ফ্লাইওভার নিয়েই প্রায় ৫৪০ কোটি টাকার কাজ চলছে। কারণ চার প্রকল্পের মধ্যে একটি বাদ যাওয়ার পরও বিদ্যমান প্রকল্পগুলো সময়মতো শেষ করা যায়নি।
এদিকে ঠিকাদারদের বক্তব্যে উঠে এসেছে একাধীক সমস্যার কথা। প্রকল্পসংশ্লিষ্টদের বক্তব্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, সব ফ্লাইওভারের ধীরগতির কারণ এক নয়। কোথাও বিল পরিশোধের জটিলতা, কোথাও গ্যাস ও বিদ্যুৎ লাইন, কোথাও পানির পাইপলাইন, আবার কোথাও নকশা নিয়ে প্রশ্ন বিভিন্ন প্রকল্পে বিভিন্ন ধরনের বাধা রয়েছে। যেমন গৌরহাঙ্গা এলাকার একাংশে গ্যাস ও বৈদ্যুতিক লাইনের কারণে নগর ভবন ও স্টেশন এলাকার কিছু অংশের কাজ বন্ধ রয়েছে। লাইন না সরানো পর্যন্ত সেখানে কাজ করা সম্ভব নয়।
তিনটি ডিসেম্বরে, একটি ২০২৮ সালে
রাসিকের ভারপ্রাপ্ত তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আহমদ আল মঈন গণমাধ্যমকে জানান, তিনটি ফ্লাইওভার চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ করার আশা করা হচ্ছে। অন্যদিকে বিন্দু চত্বর ফ্লাইওভারের মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২৮ সালের মাঝামাঝি পর্যন্ত নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। এখন প্রশ্ন উঠেছে, প্রকল্পের কাজ ২০২৬ সালের জুনে শেষ হওয়ার কথা ছিল, সেটি যদি ২০২৮ সাল পর্যন্ত গড়ায়, তাহলে এর নির্মাণকালীন জনদুর্ভোগ আর কতদিন চলবে? আর এর দ্বায়িত্ব নেবে কে?
রাসিকের তথ্য মতে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে বিল জটিলতার কারণে ঠিকাদাররা কাজ এগিয়ে নিতে পারেননি। এখন সেই জটিলতা দূর হয়েছে। ঠিকাদারদের সংশোধিত সময়সীমার মধ্যে কাজ শেষ করার জন্য প্রশাসক নির্দেশ নিয়েছেন। এমনকি চলতি বছরের শেষ নাগাদ দুই থেকে তিনটি ফ্লাইওভার যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়ার আশা করছে রাসিক।
তবে নগরবাসীর প্রত্যাশা শুধু ফ্লাইওভার শেষ করলেই হবে না; নির্মাণের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক দ্রুত সংস্কার, পানি নিষ্কাশন, নিরাপদ যান চলাচল এবং ব্যবসায়ীদের দুর্ভোগ কমানোর ব্যবস্থাও নিতে হবে। কারণ ৫৪০ কোটি টাকার এই প্রকল্পের সাফল্য শুধু পিলার, গার্ডার কিংবা সড়কের ওপর উড়ালপথ দাঁড়িয়ে যাওয়ায় সাফল্য নয়। একই সাথে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ না হওয়ায় যে অতিরিক্ত সময় ও ব্যয়ের বোঝা তৈরি হয়েছে, তার দায় নেবে কে? উন্নয়নের নামে বছরের পর বছর সড়ক বন্ধ, খানাখন্দ আর যানজটের মধ্যে চলতে থাকা মানুষ এখন প্রতিশ্রুতি নয়, দ্রুত ও নিরাপদে চলাচলের বাস্তব সমাধান চান।