logo

অপরাধ

কলেজ ছাত্র দিগন্ত হত্যায় দুই আসামি গ্রেপ্তার, গাজীপুরে বিচারের দাবিতে শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন

দিগন্ত হত্যার বিচারের দাবিতে গাজীপুরে শিক্ষার্থী-স্বজনদের মানববন্ধন; মামলায় এজাহারভুক্ত দুই আসামি গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

স্টাফ রিপোর্টার, গাজীপুর

Location :

Gazipur
ছবি: দৈনিক সংগ্রাম

গাজীপুর বিজ্ঞান কলেজের মেধাবী শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান দিগন্ত (১৮) হত্যার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন করেছেন কলেজটির সাধারণ শিক্ষার্থী, শিক্ষক, নিহতের স্বজন ও স্থানীয় এলাকাবাসী। একই সঙ্গে মামলার তদন্তে অগ্রগতি হিসেবে দুই আসামিকে গ্রেপ্তারের তথ্য জানিয়েছে রূপগঞ্জ থানা পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে গাজীপুর-শিমুলতলী সড়কের ভূরুলিয়া এলাকায় গাজীপুর বিজ্ঞান কলেজের উদ্যোগে প্রায় এক ঘণ্টাব্যাপী এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, নিহতের পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় এলাকাবাসী অংশ নেন।

গাজীপুর বিজ্ঞান কলেজ পরিচালনা পরিষদের সভাপতি শামিম মাঝির সভাপতিত্বে মানববন্ধনে বক্তব্য দেন, কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ আরিফুজ্জামান, নিহতের বাবা সিরাজ মোড়ল, মা রাশিদা বেগম, চাচা শাহীন দর্জি, ভাই শান্ত ইসলাম রাব্বি, বিএনপি নেতা ভিপি জয়নাল আবেদীন তালুকদারসহ শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, মেহেদী হাসান দিগন্ত একজন মেধাবী শিক্ষার্থী ছিলেন। বন্ধুদের সঙ্গে বেড়াতে গিয়ে তিনি হত্যার শিকার হয়েছেন। এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে তদন্তে কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি যেন হয়রানির শিকার না হন এবং প্রকৃত অপরাধীদের চিহ্নিত করে বিচারের মুখোমুখি করার দাবি জানান তারা।

বক্তব্য দেওয়ার সময় নিহতের মা রাশিদা বেগম কান্নায় ভেঙে পড়েন। তিনি ছেলের হত্যার সুষ্ঠু বিচার দাবি করে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের আহ্বান জানান।

মানববন্ধন শেষে দিগন্ত হত্যার আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে গাজীপুর জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হয়।

দুই আসামি গ্রেপ্তার

রূপগঞ্জ থানার ওসি এএইচএম সালাউদ্দিন জানান, দিগন্ত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পুলিশ এজাহারভুক্ত আসামি তুহিন ও আব্দুল্লাহকে গ্রেপ্তার করেছে। তাদের মধ্যে তুহিন আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে। অপর আসামি আব্দুল্লাহকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

ওসি এএইচএম সালাউদ্দিন বলেন, গ্রেপ্তার আসামিদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য ও জবানবন্দির ভিত্তিতে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, দশম শ্রেণিতে পড়ার সময় তাদের বন্ধুদের মধ্যে একটি বিরোধ সৃষ্টি হয়েছিল। ওই ঘটনার জের ধরে দিগন্তকে হত্যা করার পরিকল্পনা করা হয়। একপর্যায়ে তাকে মারধর ও শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে বলে তদন্তে তথ্য পাওয়া যাচ্ছে।

তিনি আরও জানান, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। মামলার তদন্তে পাওয়া তথ্য যাচাই-বাছাই করে ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনের চেষ্টা চলছে।

যেভাবে হত্যার অভিযোগ

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ২৮ আগস্ট রাতে বন্ধুদের সঙ্গে পূর্বাচলের ৭ নম্বর সেক্টরের আলমপুর এলাকায় বেড়াতে যান মেহেদী হাসান দিগন্ত। এজাহারে নিহতের ভাই শান্ত ইসলাম রাব্বি অভিযোগ করেন, পূর্বশত্রুতার জের ধরে আসামিরা ঘুরতে যাওয়ার কথা বলে দিগন্তকে ফুসলিয়ে নিয়ে যান। পরে রাত আনুমানিক সাড়ে ৯টার দিকে ভূইয়া ব্রিজের নিচে তাকে মারধর ও শ্বাসরোধ করে হত্যা করে লাশ গুমের উদ্দেশ্যে লেকের পানিতে গাদার নিচে লুকিয়ে রাখা হয়।

পরে দিগন্তের মোটরসাইকেলটি ঘটনাস্থলে পরিত্যক্ত অবস্থায় পাওয়া গেলে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। ২৯ আগস্ট সকালে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল ভূইয়া ব্রিজের নিচের লেক থেকে দিগন্তের লাশ উদ্ধার করে।

এ ঘটনায় নিহতের ভাই শান্ত ইসলাম রাব্বি বাদী হয়ে রূপগঞ্জ থানায় ছয়জনকে আসামি করে মামলা করেন। মামলাটি ২৯ আগস্ট রূপগঞ্জ থানায় দায়ের করা হয়। এতে দণ্ডবিধির ৩০২/২০১/৩৪ ধারায় হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে।

মামলার এজাহারে আসামি হিসেবে তুহিন (১৮), আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ (১৮), সাব্বির হোসেন ওরফে সোহাগ (১৮), শ্রাবন পলান (১৮), ইমন (১৮) ও অপর একজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার দুই আসামির দেওয়া তথ্য যাচাই এবং মামলার এজাহারে উল্লেখিত অপর আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। তদন্ত শেষে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ ও প্রত্যেকের ভূমিকা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।