logo

শিক্ষাঙ্গন

চাপ প্রয়োগ করে নাম ঘোষনার অভিযোগ

ছাত্রদল নেতাদের নাম ঘোষণা নিয়ে হট্টগোল, পদত্যাগ করলেন জাকসু সাংস্কৃতিক সম্পাদক

স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ না পাওয়া এবং নিজের সম্মান ও আত্মমর্যাদা ক্ষুণ্ন হওয়ার অভিযোগ এনে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (জাকসু) সাংস্কৃতিক সম্পাদক শেখ জিসান আহমেদ পদত্যাগ করেছেন।

জাবি সংবাদদাতা

Location :

Savar
জাকসু’র সাংস্কৃতিক সম্পাদক শেখ জিসান আহমেদ
জাকসু’র সাংস্কৃতিক সম্পাদক শেখ জিসান আহমেদ |ছবি: সংগৃহীত

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (জাকসু) সাংস্কৃতিক সম্পাদক শেখ জিসান আহমেদ প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ, ও রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগ তুলে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন।


শুক্রবার (৭ আগস্ট) বিকেলে নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে দীর্ঘ এক পোস্টে তিনি পদত্যাগের কারণ ব্যাখ্যা করেন।


পোস্টে তিনি লিখেন, "আমি জাকসুতে নির্বাচিত হই স্বতন্ত্র ভাবে। কারো দল বা প্যানেলের অংশ হয়ে না। নির্বাচিত হবার পর প্রথম দিনই বলেছিলাম যে আমার মতো করে কাজ করতে না পারলে বা কেউ বাধা দিলে আমি পদত্যাগ করতে দুই মিনিটও ভাববো না। গতকাল ইউনিভার্সিটির সেন্ট্রাল একটা প্রোগ্রাম ছিলো। একটা প্রোগ্রামে ৭ জন উপস্থাপক। ভাবা যায়?"


"যাইহোক অনুষ্ঠান শুরুর দুই ঘন্টা আগে প্রশাসনের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে প্রশানের আরেকজনের কাছে ফোন আসে। আমি তখন ওনার সামনেই ছিলাম। ইন্সট্যান্ট আরো দুজনের কথা বলা হলো। তারা নাকি এই প্রোগ্রামে উপস্থাপনা করবে। এরপর স্টেজে অনুষ্ঠান শুরু করতে গেলাম সেখানে গিয়ে দেখি আরো দুজন উপস্থাপক। আর এগুলো করা হয়েছে কেবল রাজনৈতিক স্বার্থ রক্ষার জন্য। একটা সাংস্কৃতিক প্রোগ্রামে কেনো এটা করতে হবে?"


তিনি আরও লিখেন, "মুক্তমঞ্চে তখন অনুষ্ঠান চলছে, আমাকে প্রসাশনের এবং সামনে থাকা শিক্ষকদের পক্ষ থেকে ডেকে নিয়ে কয়েকজন ছাত্রনেতার নাম ধরিয়ে দেয়া হলো। যাদের অধিকাংশ নেতাকে আমি চিনিই না। বলা হলো মাইক্রোফোনে যেন নামগুলো বলি। ফোর্স করা হলো। নামগুলো লিখেও দিলো একজন। যখন আমি নামগুলো বললাম লিস্টে ছাত্রদলের কয়েকজনের নাম না থাকায় সামনে হট্টগোল বেধে গেলো ছাত্রদলের নেতাদের মধ্যে।"

"আমি স্টেজে দাড়ানো, আমাকে পিছন থেকে একজন ক্রমাগত সরি বলার জন্য ফোর্স করতে থাকলো। আমি কি আপনাদের দাবার গুটি? মন চাইলো আর চাললাম!"


তিনি আরও লিখেন, "আমি শেখ জিসান আহমেদ। নিজের যোগ্যতায় এতটুকু এসেছি। নিজের সম্মান এবং আত্নমর্যাদা আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ। এই জাকসুতে আসার আগে আমি জিরো বাজেটে ফিল্ম নিয়ে কাজ করেছি, ছোট ছোট ভিডিও বানিয়েছি। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শত শত শিক্ষার্থী আমার সাথে কাজ করেছে। আমার এক ডাকে ক্যামেরার সামনে শর্ট প্যান্ট পড়ে দাঁড়িয়ে গেছে শত শিক্ষার্থী। অথচ জাকসু! এই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আমাকে এবং আমার সিদ্ধান্তকে কোনো সম্মান দেয়নি। আমাকে কাজ করার স্বাধীনতা দেয়নি।"


"আমার হাতে ফ্রকচার নিয়ে গত ১৫ দিন কাজ করেছি, অথচ কাজের প্রাপ্য সম্মানটুকু কেউ দেয়নি। কেউ না!!"


এরআগে মুক্তমঞ্চে জুলাই অভ্যুত্থানের দুই বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে এক কনসার্টের আয়োজন করা হয়। এ অনুষ্ঠানে উপস্থিতি নাম ঘোষনায় ছাত্রদলের কয়েকজনের নাম না থাকায় হট্টগোল শুরু করে ছাত্রদল নেতারা।