logo

বাংলাদেশ

খুলে দেওয়া হলো আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের সার্ভিস লেন

ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের আওতায় ধউর মোড় থেকে আশুলিয়া পর্যন্ত নির্মিত দুটি সার্ভিস সেতু যানবাহন চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে।

সংগ্রাম ডেস্ক
Printed Edition

সংগ্রাম ডেস্ক

ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের আওতায় ধউর মোড় থেকে আশুলিয়া পর্যন্ত নির্মিত দুটি সার্ভিস সেতু যানবাহন চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে।

গতকাল বুধবার সকালে আশুলিয়ার ধউর এলাকায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম সার্ভিস সেতু দুটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনের পরপরই সাধারণ যানবাহনের জন্য সেতু দুটি উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়।

প্রকল্পসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, তুরাগ নদীর ওপর নির্মিত সার্ভিস সেতু দুটি দুই লেনবিশিষ্ট। ধউর মোড় থেকে আশুলিয়া পর্যন্ত যানবাহন চলাচলের জন্য এগুলো নির্মাণ করা হয়েছে। সার্ভিস সেতু দিয়ে চলাচলের ক্ষেত্রে কোনো টোল দিতে হবে না।

সংশ্লিষ্টরা জানান, ঢাকা-আশুলিয়া সড়কের ধউর ও আশুলিয়া অংশে দীর্ঘদিন ধরে যানজট একটি বড় সমস্যা। বিশেষ করে কর্মদিবসে সকাল ও বিকেলে এ সড়কে যানবাহনের চাপ বেড়ে যায়।

আশুলিয়া ও সাভারের শিল্পাঞ্চল থেকে রাজধানীমুখী এবং রাজধানী থেকে শিল্পাঞ্চলমুখী বিপুলসংখ্যক যানবাহন প্রতিদিন এ পথ ব্যবহার করে। এর সঙ্গে দূরপাল্লার যানবাহন যুক্ত হওয়ায় যানজট আরও তীব্র হয়।

নতুন সার্ভিস সেতু চালু হওয়ায় ধউর থেকে আশুলিয়া অংশে যানবাহন চলাচলের জন্য বিকল্প পথ তৈরি হলো। এর ফলে বিদ্যমান সড়কের ওপর যানবাহনের চাপ কমবে এবং চলাচলে গতি বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

আশুলিয়া ও সাভার দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চল। এ এলাকায় তৈরি পোশাকসহ বিভিন্ন শিল্পকারখানা রয়েছে। এসব কারখানায় কর্মরত বিপুলসংখ্যক শ্রমিক ও কর্মচারী প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকা থেকে যাতায়াত করেন। একই সঙ্গে শিল্পকারখানার কাঁচামাল পরিবহন এবং উৎপাদিত পণ্য দেশের বিভিন্ন স্থানে ও বন্দরের দিকে পাঠাতে এ সড়ক ব্যবহৃত হয়।

যানজটের কারণে এ অঞ্চলের মানুষের কর্মস্থলে যাতায়াতে অতিরিক্ত সময় লাগে। একই কারণে পণ্যবাহী যানবাহনও দীর্ঘ সময় সড়কে আটকে থাকে। এতে জ্বালানি খরচ ও পরিবহন ব্যয় বাড়ে। সার্ভিস সেতু চালু হওয়ায় এ পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।

ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য হলো রাজধানীর সঙ্গে আশুলিয়া, সাভার, বাইপাইল, ঢাকা রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল বা ডিইপিজেড এবং আশপাশের শিল্প ও বাণিজ্যিক এলাকার দ্রুত ও নির্বিঘœ যোগাযোগ নিশ্চিত করা।

প্রকল্পের আওতায় প্রায় ২৪ কিলোমিটার এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণের পাশাপাশি র্যাম্প, অ্যাট-গ্রেড সড়ক এবং বাইপাইল ট্রাম্পেট ইন্টারচেঞ্জ নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রকল্পটির মোট প্রাক্কলিত ব্যয় প্রায় ২৭ হাজার ৪৫ কোটি ৬৮ লাখ টাকা। প্রকল্পের নির্মাণকাজ বর্তমানে চলমান রয়েছে।

সর্বশেষ প্রকল্পসংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, এর ভৌত অগ্রগতি প্রায় দুই-তৃতীয়াংশে পৌঁছেছে। প্রকল্পের বিভিন্ন অংশে একযোগে নির্মাণকাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

সার্ভিস সেতু চালু করার ফলে মূল এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নির্মাণকাজও আরও নির্বিঘেœ এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। কারণ নির্মাণাধীন এক্সপ্রেসওয়ের কাজের সময় স্থানীয় যানবাহনের চলাচলের জন্য বিকল্প সড়ক ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন। নতুন সার্ভিস সেতু সেই সুযোগ তৈরি করেছে।

পুরো ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে চালু হলে রাজধানীর উত্তর-পশ্চিম প্রবেশপথে যানজট কমানোর পাশাপাশি ঢাকা, আশুলিয়া, সাভার ও দেশের উত্তরাঞ্চলের মধ্যে যোগাযোগ আরও দ্রুত ও কার্যকর হবে। এর ফলে যাত্রী ও পণ্য পরিবহনে সময় সাশ্রয়ের পাশাপাশি শিল্প, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকা-ে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।